এসি বিস্ফোরণের কারণ-এসির ফ্লাশ ফায়ার ও সমাধান সম্বন্ধে জানুন।

শুধু যে গরমের সমাধান হিসেবেই এসি ব্যবহৃত হয় এমনটাও কিন্তু নয়। ঘরের বাতাস বিশুদ্ধকরণেও এসির ব্যবহার বহুল প্রচলিত।দেশে যেমন শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসির ব্যবহার বেড়ে চলেছে তেমনি এসির কারনে দুর্ঘটনা ও বেড়ে চলেছে। যে এসি আপনাকে গরমের দিনে  স্বস্তি এনে দেয় সেটাই হতে পারে মৃত্যুর কারণ।  অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অসচেতনতা বা অসতর্কতা কিংবা এসি চালানোর সঠিক ব্যবহার না জানার কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, এসি বিস্ফোরণের কারণ এসির কমপ্রেসার এর সমস্যা। আমেরিকার বিখ্যাত এসি কোম্পানির মতে
সঠিকভাবে এসির ব্যবহার ই পারে এসির বিস্ফোরণ বন্ধ করতে। তারা এসির বিস্ফোরণের কিছু কারণ ও খুজে বের করেছেন।

এসি বিস্ফোরণের কারণ

১।এসির কনডেনসারে ময়লা থাকলে কম্প্রেসরে হাই টেম্পারেচার ও হাই প্রেশার তৈরি হয় ফলে  এয়ার কন্ডিশনার সিস্টেম থেকে পর্যাপ্ত তাপ বের করে দিতে পারে না এবং স্থানটিকে শীতল করার জন্য ক্রমাগত চলতে থাকে। ময়লার কারণে তাপ বাইরে বের হতে পারে না। অত্যাধিক তাপ ও চাপের কারণে এসি প্রচুর পরিমানে গরম হয়ে পড়ে যার কারণে বিস্ফোরণ ঘটে।

২।যদি রেফ্রিজারেন্ট লাইন ক্ষতিগ্রস্থ প্রথমে এসি স্থানটিকে পূর্বের মত ঠান্ডা করতে পারে না। যদি এসিটিকে সারানো না হয় তাহলে পূর্বের মত এসি গরম হয়ে যায় এবং  বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

৩।নিম্নমানের এসির কারনে অনেক সময় বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এসব এসির তার বা কেবল, সাকশন পাইপ, রেফ্রিজারেন্ট, কম্প্রেসর প্রভৃতি অংশের গুণগত মান অত্যন্ত খারাপ। অল্প কিছুদিনের ব্যবহারেই তা বিকল হয়ে যায়। কোনো কোনো সময় তা  বিস্ফোরণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

৪। রুমের আকার অনুযায়ী এসির নির্দিষ্ট মাপ থাকে, যেমন ১ টন কিংবা দেড় টন ইত্যাদি। একটি অত্যাধিক বড় রুমে যদি ১ টনের এসি লাগানো হয়, তবে ঐ ঘরটি ঠান্ডা রাখতে অতিরিক্ত চাপ পড়বে। এর রেফ্রিজারেন্ট অংশ এত চাপ নিতে পারবে না। ফলে, এসির অভ্যন্তরীণ অংশগুলো বিকল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

৫।বৈদ্যুতিক গোলযোগজনিত কারণে এসিতে এসিডের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও, এসির বিভিন্ন তার বা গুরুত্বপূর্ণ অংশ পুড়ে যেতে পারে৷ হাই ভোল্টেজ কিংবা অনেক সময় ভোল্টেজ কম বেশি হতে থাকলে এসির কার্যকারিতা তার সাথে তাল মেলাতে পারে না। এতে এর ভিতরের অংশ পুড়ে গিয়ে এসিডের সৃষ্টি করতে পারে। যেটা  এক পর্যায়ে  এসির বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।সঠিক রেটিংয়ের সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার না করলে ও এসির বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

৬।এসিতে সর্বদা অতিরিক্ত তাপ এবং চাপের প্রয়োজন হয়। সঠিকভাবে কাজ সম্পাদনের জন্য এসির চারপাশের পরিবেশ সর্বদা দূষণমুক্ত থাকা প্রয়োজন। এই দূষণ বিভিন্ন রকম হতে পারে। যেমন- বায়ু দূষণ, তাপমাত্রা কিংবা আর্দ্রতাজনিত সমস্যা, ধুলো, এসিড, গাছের পাতা, পাখি কিংবা পোকামাকড় ইত্যাদি।এসির গোলযোগপূর্ণ সিস্টেম সৃষ্টি হবে যার ফলে বিস্ফোরণ হয়ে থাকে।

৭।কম্প্রেসরের লিমিটের চেয়ে বেশি রেফ্রিজারেন্ট (refrigerant) চার্জ করলে হাই প্রেশার তৈরি হয়ে। অথবা কম্প্রেসরে প্রয়োজনীয় পরিমাণ রেফ্রিজারেন্ট না থাকলে ভেতরের তাপমাত্রা লিমিটের চেয়ে বেড়ে গিয়ে। যার কারণে এসিতে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

৮।এসি ব্যবহারের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। যেমন, এসি চালু করার সময় ঘরের সকল জানালা দরজা ইত্যাদি বন্ধ রাখতে হবে, যেনো বাইরের বাতাস ঘরে প্রবেশ করতে না পারে। আবার, সঠিক তাপমাত্রারও নির্দেশনা আছে। এসি দীর্ঘক্ষণ চালানো অত্যন্ত ক্ষতিকর। এতে এর ভেতরের অংশগুলোতে ক্রমাগত চাপ পড়তে থাকে। স্টহিক ভাবে এসির ব্যবহার না করতে পারা এসির বিস্ফোরণ এর অন্যতম কারণ।

বিস্ফোরণ থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়

১।কোনো ঝামেলা হলেই প্রথমেই এসি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করুন। প্রত্যেকটি ওয়্যার খুলে ফেলুন এবং পুনরায় সংযুক্ত করুন এসির সাথে দেওয়া ব্যবহার বিধি অনুসারে এবং পুনরায় এসি চালু করুন।

২।কোনো ধরণের ইলেক্ট্রিকাল ক্ষতি থেকে ডিভাইসগুলোকে রক্ষা করাই সার্কিট ব্রেকারের কাজ। কোনো কারণে এসি যদি কাজ না করে তাহলে প্রথমেই সার্কিট ব্রেকার চেক করুন।

৩।ফিল্টার নিয়মিত সময় পরপর বদলানো উচিৎ। এসির এই অংশটি যতটা পরিষ্কার থাকবে, ততটাই সচল থাকবে এসি।

৪।ভেতরের গরম বাতাস বাইরে বের করে দেওয়াই কম্প্রেসারের কাজ। তবে এই কাজটি করতে করতে অনেক ধুলোবালি এবং ময়লা জমে ওঠে এই অংশটিতে।এই অংশটিতে যদি ময়লা জমে ওঠে তাহলে গরম বাতাস বের হবেনা স্বাভাবিকভাবে ফলে ঘর ঠান্ডা হবেনা ঠিকমত। তাই  এসির এই অংশটি নিয়মিত সময় পরপর পরিষ্কার করতে হবে।

৫। আপনার ঘরের ইলেক্ট্রিসিটি যদি কম ভোল্টেজে চলে তাহলে আপনার এসি কার্যকরী হবেনা। বরং যন্ত্রটি আরও ক্ষতির সম্মুখীন হবে।তাই, ঘরে এসি বসানোর আগে আপনার ইলেক্ট্রিকাল ভোল্টেজ সম্বন্ধে জেনে নিন।

৬। এসির ভেতরের পাইপের কোথাও ব্লকেজ আছে কি না, তা পরীক্ষা করা।

৭। কম্প্রেসরে প্রয়োজনীয় রেফ্রিজারেন্ট আছে কি না, তা অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত কোম্পানির টেকনিশিয়ান দিয়ে পরীক্ষা করা।

৮। কম্প্রেসরের লিমিটের চেয়ে বেশি রেফ্রিজারেন্ট চার্জ না করা।

৯। নিম্নমানের অখ্যাত বা নকল ব্র্যান্ডের এসি এবং কম্প্রেসর কেনা এবং ব্যবহার থেকে বিরত থাকা।

১০। সঠিক রেটিংয়ের সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করা।


এসি ঠান্ডা না হওয়ার কারণ,এসি থেকে পানি পড়ার কারণ,এসি সার্ভিসিং,এসির উপকারিতা ও অপকারিতা,এসি ফিটিং,এসি লাগানোর নিয়ম,এসি ব্যবহারের নিয়ম,কোন ব্র্যান্ডের এসি ভাল,এসি ব্যবহারের নিয়ম,এসি রিমোট ব্যবহারের নিয়ম,এসি ঠান্ডা না হওয়ার কারণ,এসি থেকে পানি পড়ার কারণ,এসি সার্ভিসিং,এসি ফিটিং,এসির গ্যাস,এসির গ্যাস চার্জ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *