চাকরি পাওয়ার কৌশল
অন্যান্য ক্যারিয়ার টিপস নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

চাকরি পাওয়ার কৌশল ও চাকরি পেতে করণীয় জেনে নিন !

চাকরি এত সোনার হরিণ। চিরন্তন সত্য কথা চাঁদ যেমন দূর্লভ বস্তু একটা ভালো চাকরি বর্তমান প্রেক্ষাপটে তেমনি দূর্লভ। দাদুর কাছে শুনতাম দাদুকে নাকি জোর করে চাকরি করানো হয়েছে আর এখন দাদুকে শোনায় দাদু পায়ে ধরলেও মানুষ এখন চাকরি পাই না। আসলে পাবেন কিভাবে না পাওয়াটাই যে স্বাভাবিক যে হারে সার্টিফিকেট ধারি শিক্ষিতো মানুষের সংখ্যা বাড়ছে সে হারে তো কর্মক্ষেত্র বাড়ছে না। তাই চাকরির বাজারের ভবিষ্যৎ দিনে দিনে কঠিন হবে এবং হচ্ছে। সত্য কথা কি আমাদের দেশে যে পরিমাণ কর্মক্ষেত্রে রয়েছে আমরা এর যথাযথ ব্যবহার করতে পারছি না বাড়ানো তো পরের বিষয়। যার ফলে কোম্পানি গুলোতে বাড়ছে কাজের প্রেসার আর সমাজে বাড়ছে বেকার। আপনার কাছে প্রশ্ন হলো চাকরির বাজার কঠিন হবে কাদের জন্য? জ্বি ঠিক বলেছেন কঠিন হবে তাদের জন্য যারা অযোগ্য।আসুন নিজেকে যোগ্য রূপে গড়ে তুলতে চাকরি পাওয়ার সহজ কৌশল এবং চাকরি পেতে করনীয় সম্পর্কে জেনে নিই।

চাকরি পাওয়ার কৌশল

চাকরি পাওয়ার কৌশল

সি.বি তৈরীতে দিতে হবে বাড়তি মনোযোগ : সি.বি তে প্রথমে অবশ্যই সদ্য তোলা ছবি সহ আপনার পরিচয় দেয়ার পর আসে ক্যারিয়ার অবজেক্ট। যা লিখার সময় অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে যেন আপনার লিখা নিয়োগকারীদের কে আকৃষ্ট করে। অতি সংক্ষেপে কিভাবে তাদের নজর কাড়াবেন ঐ চিন্তা মাথায় রেখে তা লিখবেন। এমনভাবে লিখবেন না যেন তা নিয়োগকারীদের কাছে মনে হয় আপনি অভার স্মার্ট।। কোয়ালিফিকেশনে যদি পয়েন্ট বা সিজিপিএ কম থাকে তাহলে কোয়ালিফিকেশনের আগে জব এক্সপেরিয়েন্স লিখবেন যদি এক্সপেরিয়েন্স না থাকে তাহলে যথারীতি আগে কোয়ালিফিকেশন লিখবেন। আবার রেজাল্ট ভালো থাকলে কোয়ালিফিকেশন ডিটেইলসে লিখবেন। তবে ভালো না থাকলে দরকার নেই। বৈবাহিক অবস্থা, জাতীয়তাবাদ, ধর্ম,ওজন,উচ্চতা এসব কম গুরুত্বপূর্ণ তাই শেষে লিখবেন। রেফারেন্স এর ক্ষেত্রে ফ্রেশার হলে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অথবা যে প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছেন ঐ প্রতিষ্ঠানের পরিচিত কেউ রাখবেন। অবশ্যই তাকে জানিয়ে রাখবেন। সবসময় মনে রাখবেন ইন্টারভিউ দেয়ার সময় কখনো যেনো ক্লিন সেভ, ফরমাল পোশাক আর নিজের এক কপি সি.বি সাথে কলম নিতে যেন আপনার ভুল না হয়।সবসময় মনে রাখবেন ইন্টারভিউ দেয়ার সময় কখনো যেনো ক্লিন সেভ, ফরমাল পোশাক আর নিজের এক কপি সি.বি সাথে কলম নিতে যেন আপনার ভুল না হয়।

শিক্ষিত নয় নিজেকে গড়ে তুলতে হবে যোগ্যরূপে : যোগ্যতা অর্জন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ধরুন আপনি আপনার কোম্পানির জন্য লোকবল নিয়োগ করছেন। তাহলে আপনি কিভাবে লোক সিলেকশন করবেন। অবশ্যই সিলেকশনের ক্ষেত্রে আপনি তাকেই সিলেকশন করবেন যাকেআপনার যোগ্য মনে হবে। তাইতো চাকরির বাজারে যোগ্য লোকের গুরুত্ব অসীম। যোগ্যতা অর্জন করতে হলে আপনাকে অবশ্যই লক্ষ্য স্থীর করতে হবে। স্থীর করতে হবে মন। এরপর আসে নিজেকে গড়ে তোলার বিষয় যেখানে প্রয়োজন যথেষ্ট ধৈর্য। ধৈর্য সহকারে অর্থপূর্ণ কাজ আর অধ্যবসায় এর মাধ্যমে নিজেকে যোগ্য রূপে গড়ে তুলতে হবে । বর্তমানে নিজেকে কর্ম উপযোগী হিসেবে তৈরী করার বহু সুযোগ রয়েছে। আপনি ইচ্ছা করলেই বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে খুব সহজে এবং অল্প সময়ের মধ্যে কোর্স করে নিজেকে তৈরী করতে পারবেন। যেমন: গ্রাফিক্স ডিজাইন, মাইক্রোসফট অফিস, অটোক্যাড, ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেবলপমেন্ট ইত্যাদি।

চাকরি খোঁজ করা এবং বুঝে আবেদন : খোঁজাখুজি করা যদি হয় এডজেক্টিব তাহলে তাকে আমরা দুভাগে ভাগ করতে পারি। আর তা হলো ১) খোজাখুজি একটি ভালো গুণ অথবা ২) খোজাখুজি একটি খারাপ গুণ। চাকরির ক্ষেত্রে খোজাখুজি করা অবশ্যই ভালো গুণ। একটি ভালো চাকরি খুজে পাওয়া খনিতে হীরা খুজে পাওয়া সমান। আমারা যদি একটু সময় নিয়ে জব খুঁজাখুঁজি করি তাহলে আপনি হতে পারেন সেই হীরার সন্ধান পাওয়া ব্যক্তি।আচ্ছা ধরুন খোজাখুজি করলেন, অনেক চাকরি আপনার সামনে আসলো এখন কি করবেন। অবশ্যই এখন আপনাকে বুঝতে হবে কোনটি আপনার জন্য ভালো। আপনি অবশ্যই ঐ চাকরিতে আবেদন করবেন যা আপনার মনের মত। না হয় হীরা পাবেন ঠিকই কিন্তু বেশিদিন নিজের করে রাখতে পারবেন না।তাই নিজেকে সময় দিন খোজাখুজি করে যা পাবেন তা নিয়ে বিশ্লেষণ করুন এবং বেচে নিন আপনার পছন্দের চাকরি।

নেটওয়ার্ক ও যোগাযোগ : ধরুন আপনার কোম্পানিতে মাত্র ১জন লোক লাগবে। তাহলে আপনি কি করবেন? আপনি কি ১জন লোকের জন্য পেপারে বিজ্ঞপ্তি দিবেন? অবশ্যই উত্তর না।তখন আপনি আপনার অফিসের কলিগ, জুনিয়র, বন্ধু, কিংবা ডিপার্ট্মেন্টের ছোট ভাই কে বলবেন ভাই আমার এই কাজের জন্য একজন লোক দরকার। আর এটাই হল চাকরির নেটওয়ার্ক। প্রতিটি মানুষের নিজস্ব একটি নেটওয়ার্ক থাকে যার নেটওয়ার্ক যত শক্তিশালী তার জন্য যেকোনো কাজ ততই সহজ।তাই আপনাকে তৈরি করতে হবে একটা শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। যেন আপনার নেটওয়ার্ক আর নিয়োগদানকারীদের নেটওয়ার্কের মধ্যে সংযোগ তৈরি হয়।এরপর আসুন নেটওয়ার্ক তৈরি করলেন এখন রক্ষা করার পালা আর এর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত যোগাযোগ স্থাপন। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোর মধ্যে লিংক্ডইন, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সহজ যোগাযোগ মাধ্যম। যা দিয়ে আপনি যোগাযোগের মাধ্যমে সর্বদা আপনার তৈরি নেটওয়ার্কের যত্ন নিতে পারবেন।

নিজকে আপডেট রাখা : আপনি এখন কেমন হেন্ডসেট ব্যবহার করেন? নিশ্চয় এন্ড্রয়েড। তাহলে আপনাকে যদি এখন বাটন ফোন ব্যবহার করতে বলা হয় আপনার কেমন মনে হবে। অবশ্যই বিরক্ত লাগবে। তাই চাকরির বাজারে আপনাকেও বাটন ফোন থেকে অবশ্যই এন্ড্রয়েড এ রূপ নিতে হবে। না হয় আপনাকেও বাটন ফোনের মত ছুড়ে ফেলে দেয়া হবে। আপনাকে বুঝতে হবে প্রতিনিয়ত যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সবকিছু আপডেট হচ্ছে। তাই আপনাকেও আপডেট হতে হবে। যদি হতে হয় তাহলে সবসময় চেষ্টা করুন নতুন কিছু শিখতে এবং করতে। তাহলে অবশ্যই সময়ের সাথে সাথে আপনিও নিজেকে এগিয়ে নিতে পারবেন। পরিশেষে বলতে হয় চাকরি খুজে পাওয়া যত সহজ ঠিক ততই কঠিন। বর্তমান চাকরির বাজারে এগিয়ে থাকতে হলে আপনাকে সবদিক চিন্তা করে আগাতে হবে। তা না হলে আপনার চাকরি জীবনের গল্প উপসংহারেই শেষ। আসুন আমরা নিজেকে বুঝি, সময় দেয়, তৈরি করি, যেন বেকারত্বের অভিশাপ থেকে নিজে মুক্ত হয় এবং সমাজ কেও মুক্ত করতে পারি।

পোস্টটি লিখেছেনঃ মোহাম্মাদ আশিক, আগ্রাবাদ,চট্টগ্রাম।

সম্পাদনাঃ কেএফপ্লানেট ডেস্ক


সরকারি চাকরি পাওয়ার সহজ উপায় কি, চাকরি পাওয়ার কৌশল, চাকরি পাওয়ার মন্ত্র,সরকারি চাকরি পাওয়ার টিপস, সরকারি চাকরির প্রস্তুতি,কিভাবে চাকরি পাবো, সরকারি চাকরি পাওয়ার কৌশল,চাকরি পেতে করণীয়, চাকরি পাওয়ার উপায়, চাকরি পাওয়ার যোগ্যতা, জব পাওয়ার উপায়, সহজে চাকরি পাওয়ার উপায়, চাকরি পেতে চাই, চাকরি পেতে হলে,চাকরি পেতে কি করতে হবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *