তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত ও গুরুত্ব

তাহাজ্জুদ নামাজের ইবাদত আল্লাহর কাছে অনেক প্রিয়। এই ইবাদত টি গভীর রজনীতে একাকী করতে হয়।সেজন্য আল্লাহর কাছে এই ইবাদত টি অনেক বেশি প্রিয়। একজন মুসলিম হিসাবে সবার তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া উচিত। আজ আমরা মুসলমানদের খুবই ভাল একটি ইবাদত তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত ও গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করব ।  

তাহাজ্জুদের প্রধান অর্থ হল ঘুম থেকে জেগে ওঠা। গভীর রাতে ঘুম থেকে উঠে নামাজ কে তাহাজ্জুদের নামাজ বলা হয়। ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত সবচেয়ে বেশি বলে ধরা হয়।

তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত ও গুরুত্ব

তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত ও গুরুত্ব বলে শেষ করা যাবে না। আল্লাহর অশেষ রহমতের মধ্যে তাহাজ্জুদ নামাজ একটি রহমত। এই নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে প্রিয় বান্দা হওয়া যায়।

রাসূল (সা.) বলেন, আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহতায়ালা প্রতিদিন শেষ রাতে প্রথম আসমানে এসে বলেন, তোমরা কে আমাকে ডাকবে! আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কে আমার কাছে কিছু চাইবে! আমি তাকে তা দেব। কে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে! আমি তাকে ক্ষমা করে দেব (মুসলিম, মিশকাত ১০৯)।

রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে জেগে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে এবং সে তার স্ত্রীকেও ঘুম থেকে জাগিয়ে নামাজ পড়ায়,  তার প্রতি আল্লাহ রহমত বর্ষণ হতে থাকেন। (আবু দাউদ, নাসায়ী, মিশকাত)।

মহানবী (সা.) তাহাজ্জুদ নামাজ দুই দুই রাকাত করে আদায় করতেন। তিনি কখনও চার রাকাত, কখনও আট রাকাত, কখনও ১২ রাকাত পড়েছেন। আমাদের মহানবী (সা.) গভীর রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতেন।  তাহাজ্জুদ নামাজ যে কোনো সূরা দিয়েই আপনি আদায় করতে পারবেন।

শেষ রাতে মানুষ যখন গভীর ঘুমে মগ্ন থাকে, তাহাজ্জুদ নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি বান্দার ভালবাসা আরও বেশি জাগ্রত হয়। সে জন্য এই নামজের ফজিলত ও গুরুত্ব খুব বেশি।

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তারা শয্যা ত্যাগ করে তাদের প্রতিপালককে ডাকে আশায় ও আশঙ্কায়। আর আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি, তা থেকে তারা ব্যয় করে।’ (সূরা: সাজদা, আয়াত: ১৬)।

খাটি ইমানদার হতে হলে শুধু নামাজ নয় গভীর রাতে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও কান্না কাটি করতে হয়।  পবিত্র কুরআনে খাটি ঈমানদারের বলতে বুঝিয়েছে , ‘তারা ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, অনুগত ব্যয়কারী ও রাতের শেষ প্রহরে ক্ষমাপ্রার্থী।’ (সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ১৭)।

পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব অনেক বেশি। মহানবী  (সা.) বলেছেন, ‘রমজানের পর সর্বশ্রেষ্ঠ রোজা হলো মুহাররমের রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সর্বশ্রেষ্ঠ নামাজ হলো  তাহাজ্জুদের নামাজ।’ (মুসলিম, হাদিস নম্বর : ১১৬৩)।

তাহাজ্জুদ নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া যায়,এবং আল্লাহ তার প্রিয় বান্দকে ক্ষমা করেন । মহানবী  (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়াল তার প্রিয় বান্দাদের ডেকে বলেন, কে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব! কে আমার কাছে কিছু চাইবে, আমি তাকে দান করব! আর কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব!’ (বুখারি ও মুসলিম)।

ইসলামের প্রাথমিক যুগে ৫ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার আগে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। পবিত্র কোরআনের শরীফে বিভিন্ন জায়গায় তাহাজ্জুদ নামাজের প্রতি তাগিদ দেয়া হয়েছে। শেষ বিচারে যারা বিনা হিসেবে জান্নাতে যেতে পারবেন, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ হলেন যারা  তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন।

সালাতুল লাইল বা তাহাজ্জুদ এশার নামাজ আদায়ের পর থেকে সুবহে সাদিকের হওয়া পর্যন্ত পড়তে পারবেন। তবে গভীর রাতে  তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা বেশি ভাল।

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) ৮ রাকাআত তাহাজ্জুদ পড়তেনসেজন্য ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া উত্তম। আপনি  ১২ রাকাআত তাহাজ্জুদ আদায় করতে পারবেন কোন সমস্যা নেই। তবে সম্ভব না হলে ৪ রাকাত আদায় করা। যদি তাও সম্ভব না হয় তবে ২ রাকাত তাহাজ্জুদ আদায় করা ভালো হবে। মনেরাখবেন তাহাজ্জুদ নামাজের কোনো কাজা নামাজ নেই।

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত:

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ رَكَعَتِى التَّهَجُّدِ – اَللهُ اَكْبَر

অর্থ: দুই রাকাআত তাহাজ্জুদের নিয়ত করছি.. অতঃপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নিয়ত বেঁধে নামাজ পড়া।

যেকোনো সূরা দিয়েই এ নামাজ পড়া যায়। তবে লম্বা কেরাতে নামাজ আদায় করা ভাল হয়। তাই লম্বা কেরাতে তাহাজ্জুদ আদায় করা উত্তম।

– তাকবিরে তাহরিমা ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নিয়ত বাঁধা; অতঃপর ছানা পড়া; সূরা ফাতেহা পড়া; অন্য একটি সূরা মিলানো তথা কেরাত পড়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক লম্বা কেরাত পড়তেন। অতঃপর অন্যান্য নামাজের ন্যায় রুকু, সেজদা আদায় করা। এভাবেই দ্বিতীয় রাকাত আদায় করে তাশাহহুদ, দরূদ ও দোয়া মাছুরা পড়ে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে তাহাজ্জুদের নামাজ সম্পন্ন করা।

দুই দুই রাকাত করে ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা উত্তম।

দোজাহানের মালিক মহান আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক মুসলিম উম্মাহকে যথাযথভাবে রাতের শেষ প্রহরে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন।

তবে আগে পাঁচ ওয়াক্ত নামজ আদায় করতে হবে । কারন এই পাঁচ ওয়াক্ত নামজ আমাদের উপর ফরজ কার হয়েছে।

সবাইকে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য থেকে দ্বীনের পথে চলার তাওফিক দান করুক।

আমিন।

তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত কি কি, tahajjud namaz fazilat bangla,তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার ফজিলত, তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত ও ফজিলত, তাহাজ্জুদের ফজিলত, তাহাজ্জুদ নামাজের হাদিস, তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব, রমজান মাসে তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত, তাহাজ্জুদ নামাজের সঠিক নিয়ম ও ফজিলত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *