Skip to content

সরকারিভাবে দক্ষিণ কোরিয়া কিভাবে যাওয়া যায়?

    এশিয়ার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া একটি উন্নত দেশ , অনেকের আশা থাকে দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার। আমাদের এই অনুচ্ছেদে আলোচান করব সরকারিভাবে দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার উপায় । দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্প খাতে প্রতিবছর কয়েক হাজার বাংলাদেশি কর্মী সরকারিভাবে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকেন এই বছরও এর ব্যতিক্রম নয়। সরকারি ভাবে দক্ষিণ কোরিয়া কিছু সংখ্যাক বাংলাদেশী যেতে পারবেন। এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের (ইপিএস) আওতায় শিল্পোত্পাদন ও সেবা খাতে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর সরকারি খরচে কয়েক হাজার দক্ষ কর্মী দক্ষিণ কোরিয়া যায়।

    সরকারিভাবে দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার উপায় যেতে মোট ৬ টি ধাপের মধ্যে যেতে হয় । সকল ধাপ সম্পূর্ণ হলে তবেই আপনি দক্ষিণ কোরিয়া যেতে পারবেন। আমাদের এখানে দক্ষিণ কোরিয়া যেতে কি করতে হবে এবং কতটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে , কিভাবে এই সব ধাপ অতিক্রম করবেন সেই সকল বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

    সরকারিভাবে দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার উপায়

    সরকারিভাবে দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার উপায় গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। বাংলাদেশ থেকে বৈধ উপায়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় দক্ষ কর্মী পাঠানোর একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে। তাই বৈধভাবে মৌসুমি ভিসা প্রদান করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শ্রমিক নেওয়ার লক্ষ্যে দক্ষিণ কোরিয়া বিভিন্ন সময় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে থাকে। বোয়েলসের তথ্য অনুসারে দক্ষিণ কোরিয়া গেছেন ২৫ হাজার ২১৪ জন বাংলাদেশি কর্মী। এর মধ্যে ৭৬ জন নারী।

    দক্ষিণ কোরিয়া যেতে মাধ্যমিক পাশ হতে হবে ,বয়স সীমা ১৮ থেকে ৩৯ বছর পর্যন্ত যেতে পারবেন। আগ্রহী প্রার্থিকে অবশ্যই কোরিয়ান ভাষায় উত্তীন হতে হবে। ফোজদারি কোন অপরাধ থাকলে আবেদন করতে পারবেন না । 

    অনলাইনে আবেদন

    সরকারিভাবে কোরিয়া যেতে কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে তারমধ্যে অনালাইনে আবেদন অন্যতম। দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য কয়েক ধাপে প্রার্থী নির্বাচন করে বোয়েসেল। সার্কুলার বোয়েলস ওয়েবসাইট bosel.gov.bd পাবলিশ হয়ে থাকে। অনলাইনে প্রি-রেজিস্ট্রাশন করতে হলে কি কি যোগ্যতা থাকতে হবে তা স্পষ্ট করে সার্কুলারে দেওয়া থাকবে।

    লটারি

    এইচআরডি কোরিয়ার চাহিদা অনুযায়ী, এবার মোট ২৪ হাজার প্রার্থী কোরিয়ান ভাষা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে কোরিয়ান ভাষা জানা ৯ হাজার এবং ভাষা না জানা ১৫ হাজার প্রার্থী পরীক্ষা দিতে পারবেন। যদি চাহিদার চেয়ে অনেক বেশী প্রি-রেজিস্ট্রেশন হয়। তখন সমস্ত রেজিস্ট্রেশন থেকে কোটা সমপরিমান লোক
    কম্পিউটারাইজড লটারির মাধ্যমে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়ে থাকে।

    বাছায়ের প্রক্রিয়া

    সরকারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে সারা দেশে ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে কোরিয়ান ভাষা শেখানো হয়। এইচআরডি কোরিয়া তাঁদের ২০০ নম্বরের পরীক্ষা নিতে হয়। অনলাইনের মাধমে মোট দুটি ধাপে এই পরীক্ষা নেয় কোরিয়ার এইচআরডি কর্তৃপক্ষ। প্রথম ধাপে নেওয়া হয় কম্পিউটার বেইজড এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম (ইপিএস টপিক) পরীক্ষা। ইপিএস টপিকে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের স্কিল টেস্ট ও কম্পিট্যান্সি টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়।পরীক্ষার সময় ৫০ মিনিট। ২০০ নম্বরের মধ্যে ১১০ নম্বরের বেশি প্রাপ্ত প্রার্থীদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ নম্বরের ক্রম অনুযায়ী মেধাতালিকা তৈরি করা হয়।

    সরকারিভাবে কোরিয়া যেতে মোট খরচ

    বোয়েলসের মাধ্যমে সরকারি ভাবে কোরিয়া যেতে খরচ খুব বেশি না। একজন বাংলাদেশি কর্মীর সব মিলে ৩৩ হাজার ৫২৪ টাকা খরচ হয়। এর মধ্যে বোয়েসেলের সার্ভিস চার্জ ভ্যাটসহ ২৩ হাজার ১৮৪ টাকা, নিবন্ধন ফি ২০০, ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্সের জন্যকল্যাণ তহবিল ফি ৩ হাজার ৫০০, ট্যাক্স ৮০০, স্মার্ট কার্ড ফি ২৫০, বিমা ফি ৪৯০ এবং ভিসা ফি ৫ হাজার ১০০ টাকা। এই হল সরকারিভাবে কোরিয়া যাওয়ার মোট খরচ তবে যাওয়া ও আসার বিমান ভাড়া নিজস্ব ভাবে বহন করতে হবে।

    চাকরীর খাত সমূহ

    দক্ষিণ কোরিয়ায় উৎপাদন খাতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া হয়। এই সকল উৎপাদন খাত সমূহের মধ্যে আছে পনির ও খাদ্যপণ্যশিল্প, কাগজশিল্প, প্লাস্টিকশিল্প, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস শিল্প, কাঠশিল্প, মেটালশিল্প, মেশিনারিজ, টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্প।

    বেতন ভাতা 

    বাংলাদেশি কর্মীদের একজনের ন্যূনতম মাসিক আয় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা হয়ে থাকে। এখানে সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজ করতে হয়। শনি ও রোববার সাপ্তাহিক ছুটি। তবে আপনি ওভার টাইম করতে পারবেন, তাছাড়া সরকারি ছুটির দিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    "কনটেন্ট চুরি করে নিজকে চোর প্রমাণ করবেন না" by KFPlanet Team!