মোটর সাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম ও নবায়ন করার নিয়ম জানুন

মানুষের জীবন আরও সহজ ও সুন্দর করে তুলতে মোটর সাইকেলের ভূমিকা অপরিসীম। মোটর সাইকেল এমন একটি বাহন যা ব্যবহার করে খুব সহজে আপনি আপনার গন্তব্য পৌছাতে পারবেন । মোটর সাইকেল কেনার পর প্রথম কাজ হল মোটর সাইকেলের ড্রাইভিং করা , আমরা দেখাব মোটর সাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম ও নবায়ন করার নিয়ম। অনেক টাকা দিয়ে মোটর সাইকেল কেনার পর অল্প কিছু টাকার জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স করে ফেলাটায় ভাল হবে, কারণ  ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটর সাইকেল চলানো আইননত দণ্ডনীয়। সে জন্য আপনাকে মোটর সাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম ও নবায়ন করার নিয়ম ভাল ভবে জানতে হবে ।

মোটর সাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম ও নবায়ন করার নিয়ম

মোটর সাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে হলে বাংলাদেশে প্রবর্তিত আইন ও নিয়ম কানুন মেনে করতে হবে । তবে বাংলাদেশে মোটর সাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স করার ক্ষেত্রে অনেক বেশি সময় লেগে যায়। লাইসেন্স করার আগে সঠিক নিয়ম মেনে আবেদন করতে হবে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য যোগ্যতা

  •  পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স-এর জন্য বয়স ন্যূনতম ২০ বছর।
  • অপেশাদার এর জন্য ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে। ২। ন্যাশনাল ।
  • আইডি কার্ড / জন্ম সনদ/পাসপোর্ট এর সত্যায়িত ফটোকপি।
  • আবেদনকারীকে মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য যে ভাবে আবেদন করবেন 

আপনাকে সর্বপ্রথম লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অনলাইনে আবেদন করতে হবে। স্থায়ী ঠিকানা বা বর্তমান ঠিকানা প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র সহ যেমন- বিদ্যুৎ অথবা গ্যাস বিলের ফটোকপি ইত্যাদি পেশ করে বিআরটিএর সার্কেল অফিসে আবেদন করতে হবে।

  • অনলাইনে ফরমে আবেদন করতে হবে ।
  • রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক শারীরিক সুস্থতার মেডিকেল সার্টিফিকেট।
  • ন্যাশনাল আইডি কার্ড/জন্ম সনদ/পাসপোর্ট সত্যায়িত ফটোকপি।
  • নির্ধারিত ফি (১ ক্যাটাগরি- ৩৪৫/- ও ২ ক্যাটাগরি- ৫১৮/- টাকা) বিআরটিএর নির্ধারিত ব্যাংকে (ব্যাংকের তালিকা www.brta.gov.bd-এ পাওয়া যাবে) জমার রশিদ।
  • সদ্য তোলা ৩ কপি স্ট্যাম্প ও ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

=) ক্যাটাগরি-১  , ৩৪৫ টাকা  শুধু মোটর সাইকেল বা শুধু হালকা মোটরযান।

=) ক্যাটাগরি-২   , ৫১৮ টাকা মোটর সাইকেলের সাথে যে কোন একধরণের মোটর যান।

ড্রাইভিং লাইসেন্সে আবেদন করার দুই থেকে তিন মাস পর প্রাথীর লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্ট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। অবশ্যই পরীক্ষার তারিখ আবেদনের সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহককে মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে। আপনি কোথায় পরীক্ষা দিতে চান- সে স্থান নাম অনলাইনে ফরম পূরণের সময়   সিলেক্ট করে দিতে হবে। লিখিত পরীক্ষা ২০ নম্বরের মধ্যে পাশ নম্বর ১২ ।

লিখিত, মৌখিক এবং ফিল্ড টেস্ট তিনটি পরীক্ষায় আলাদা ভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পর নতুন আরেকটি নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি প্রদান করে স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসে আবেদন করতে হবে। স্মার্টকার্ড প্রিন্টিং সম্পন্ন হলে গ্রাহককে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়।

স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য যে সব  প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রয়োজন

  • নির্ধারিত ফরমে আবেদন।
  •   রেজিস্টার্ড ডাক্তার কর্তৃক মেডিকেল সার্টিফিকেট।
  • ন্যাশনাল আইডি কার্ডের সত্যায়িত ফটোকপি।
  • নির্ধারিত ফি (পেশাদার- ১৬৭৯/- ও অপেশাদার- ২৫৪২/- টাকা) বিআরটিএর নির্ধারিত ব্যাংকে জমাদানের রশিদ।
  • পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন।
  •  সদ্য তোলা ১ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি।

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের সকল তথ্য

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন দুইটি ধাপে হয়ে থাকে একটি হল অপেশাদার আরেকটি হল পেশাদার।

পেশাদার এর তথ্যঃ

পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করত একটি ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে নির্ধারিত ফি (মেয়াদোত্তীর্ণের ১৫ দিনের মধ্যে হলে ১৫৬৫/- ও মেয়াদোত্তীর্ণের ১৫ দিন পরে প্রতি বছর ২৩০/- টাকা জরিমানাসহ) জমা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিআরটিএর নির্দিষ্ট সার্কেল অফিসে আবেদন করতে হবে। স্মার্টকার্ড সহ সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে গ্রাহককে এসএমএসের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করা হবে ।

অপেশাদার এর তথ্যঃ

নির্ধারিত ফি (মেয়াদোত্তীর্ণের ১৫ দিনের মধ্যে হলে ২৪২৭/- ও মেয়াদোত্তীর্ণের ১৫ দিন পর প্রতি বছর ২৩০/- টাকা জরিমানাসহ) জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় সকল কাগজ পত্র বিআরটিএর নির্দিষ্ট সার্কেল অফিসে প্রাথীকে  আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্র সহ সংযুক্ত কাগজপত্র এবং গ্রাহকের ব্যক্তিগত সকল তথ্য সঠিক পাওয়া গেলে ঐ দিনে বায়োমেট্রিক্স গ্রহণ করা হয়। স্মার্টকার্ড প্রিন্টিং হয়ে গেলে গ্রাহকের যে মোবাইল নাম্বার দেওয় থাকে সেই নাম্বরে SMS দেওয়া হয়।

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সমূহঃ

  •   আবেদন ফরম।
  • রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক মেডিকেল সার্টিফিকেট।
  • ন্যাশনাল আইডি কার্ডের সত্যায়িত ফটোকপি।
  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ।
  • নির্ধারিত ফি জমাদানের রশিদ।
  • পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন।
  • সদ্য তোলা ১ কপি পাসপোর্ট ও ১ কপি স্ট্যাম্প সাইজ ছবি।

মোটর সাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি, মোটর সাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করার নিয়ম,মোটর সাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স ফরম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *