মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর

মোবাইল ফোন টাওয়ারগুলি বিপুল পরিমাণে ক্ষতিকারক আরএফ (রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি) বিকিরণকে “মাইক্রোওয়েভ” বিকিরণ হিসাবেও পরিচিত করে। আপনি যদি কখনও এই বিশাল টাওয়ারগুলি চালিত বিশাল আকার এবং পরিমাণের পাওয়ার ক্যাবলগুলি দেখে থাকেন তবে আপনি জানেন যে তারা যে পরিমাণ এম্পারেজ ব্যবহার করে তা তাত্পর্যপূর্ণ। প্রায়শই যে পরিমাণ রেডিয়েশনের প্রকৃতপক্ষে এটি আমাদের বাড়ীতে পরিণত হয় তা আমাদের বাড়ির ওয়াইফাই ডিভাইসের তুলনায় অনেক কম তাৎপর্যপূর্ণ যা একই ধরণের রেডিয়েশান রাখে। তবে তারা এখন ঘরগুলির টাওয়ারগুলি স্থাপন করছে যেখানে লোকেরা বাস করে, কাজ করে এবং স্কুলে যায় এমন ভবনের নিকটে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই আরএফ বিকিরণকে সম্ভাব্য কার্সিনোজেন হিসাবে তালিকাভুক্ত করেছে, যার অর্থ সম্ভাব্য ক্যান্সারের কারণ।

মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর

মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর

হ্যাঁ রেডিয়েশন ক্ষতিকারক। আপনি শারীরিকভাবে একটি সেল টাওয়ারের যত নিকটে অবস্থিত, এটি তত বেশি ক্ষতিকারক। সেল ফোন টাওয়ার থেকে আরএফ বিকিরণ আপনার দেহের নিজস্ব ইএমএফগুলির সাথে জগাখিচুড়ি করতে পারে, যার ফলে মাথাব্যথা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, কার্ডিওভাসকুলার স্ট্রেস, কম বীর্যসংখ্যা, জন্মগত ত্রুটি এবং বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সারের মতো বিভিন্ন ধরণের সম্ভাব্য স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়।

১।মোবাইল টেলিফোন হ্যান্ডসেট দ্বারা নির্গত রেডিও তরঙ্গগুলির কিছু অংশ শরীর দ্বারা শোষিত হয়। জিএসএম হ্যান্ডসেট দ্বারা নির্গত রেডিও তরঙ্গগুলি সাধারণত একটি ওয়াটের নীচে থাকে। মোবাইল ফোন থেকে সর্বাধিক পাওয়ার আউটপুট মোবাইল ফোনের স্ট্যান্ডার্ড এবং প্রতিটি দেশের নিয়ন্ত্রক এজেন্সি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

২। মানব দেহের শত ট্রিলিয়ন কোষ নিন্ম শক্তির তড়িৎ চৌম্বকীয় সংকেত ও রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে চলে। নিরবচ্ছিন্ন বহিঃ তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরণে অবস্থান করলে এই বিকিরণ ক্ষেত্র আন্তঃকোষীয় যোগাযোগ পথকে সাংঘাতিকভাবে বিকৃত করে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। ফলে ভুল ও বিকৃত সংকেতের কারণে কোষের ভেতরে অস্বাভাবিক কর্মকান্ড শুরু হয় এবং কোষ পর্দা শক্ত হয়ে যায়। কোন পুষ্টি কোষের ভিতরে ঢুকতে পারে না এবং বিষাক্ত দ্রব্য বের হতে পারে না। ফলে কোষটি বিষাক্ত হয়ে যায়। তখন জেনেটিক পরিবর্তন, অল্প বয়সে বৃদ্ধ হওয়া, স্মরণশক্তি লোপ, অবসন্নতা, লিউকেমিয়া ও ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগ দেখা দেয়।

৩।মোবাইল ফোন ব্যবহারের পূর্বে ১৯৭০ সালে ১০ হাজার শিশুর মধ্যে অটিজমে (মানসিক প্রতিবন্ধী) আক্রান্তের সংখ্যা পাওয়া যেত একজন। ২০০৩ সালে এ হার হয়েছে ১৬৬ জন শিশুর মধ্যে একজন। বর্তমানে গবেষণায় অনেক বিজ্ঞানী ও ডাক্তার এই ইঙ্গিত পাচ্ছেন যে, তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরণের আঘাতে শিশুদের দেহ কোষ ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে। ফলে জেনেটিক ড্যামেজ সংঘটিত হচ্ছে। যা অটিজম থেকেও বেশি মারাত্মক।

রাজধানীর বিভিন্ন ভবনের ছাদে মোবাইল ফোন কোম্পানির যে টাওয়ার বসানো আছে, তার জন্য আমাদের কাছ থেকে তারা কোনো অনুমতি নেয়নি। বিষয়টি নিয়ে আমরা নতুন করে ভাবছি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ভবনের ছাদে বসানো টাওয়ারে কর দেওয়ার একটা নীতিমালা আছে। অথচ মোবাইল ফোন কোম্পানির টাওয়ার বসাতে আমাদের কাছ থেকে কেউ অনুমতি নেয়নি। বিষয়টি নিয়ে আমরা ভাবছি, কিছু একটা করা যায় কি-না।
বিশেষজ্ঞরা জানান, শিশুদের থেকে কমপক্ষে ৫ ফুট দূরে মোবাইল রাখতে হবে। রাতে ঘুমানোর সময় মোবাইল কমপক্ষে ৭ ফুট দূরে রাখতে হবে। আবাসিক এলাকা থেকে দূরে লোকালয়ের বাইরে কমপক্ষে ৪০ তলা ভবন সমান উঁচুতে মোবাইলের টাওয়ার স্থাপন করতে হবে। কিন্ত এ নিয়মের কোন বালাই নেই এখানে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ছাদে মোবাইল টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষকের ছেলেমেয়েরা পড়ালেখা করেন উদয়ন স্কুলে। এই স্কুলের ছাদে কয়েকটি মোবাইল কোম্পানির টাওয়ার স্থাপিত আছে। টাওয়ার গুলো সরিয়ে নেয়ার আবেদন করা হলেও কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি বলে জানা গেছে।

১৮ কোটি মানুষের এই দেশে মোবাইল ফোনের ব্যবহারকারীর সংখ্যা দেশের অর্থনীতি অনুযায়ী যা হওয়ার কথা তার চেয়ে বেশি। ফলে অপরিকল্পিতভাবে টাওয়ার এন্টেনা বসানোর সংখ্যাও অধিক। বিকিরণের ভবিষ্যৎ ভয়াবহতা সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন মহল এখনও অজ্ঞাত রয়েছেন বলে মনে হয়। এ কারণে যেখানে সেখানে টাওয়ার স্থাপনের অনুমতি দেয়া হচ্ছে। প্রত্যেকটি এন্টেনা দিয়ে উচ্চ ক্ষমতার বিকিরণ প্রতিনিয়ত চারদিকে ছড়াচ্ছে। আর সম্মিলিত তড়িৎ ক্ষেত্রের মধ্যে কয়েক হাজার শিশু প্রতিদিন ৬/৭ ঘণ্টা অতিবাহিত করছে। ফলে এই শিশুরা ২০ বছর পরে বিকিরণের প্রভাবে লিউকেমিয়া, ব্রেন ক্যান্সার, স্মৃতিশক্তি হারানোসহ মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

আন্তর্জাতিক ক্যান্সার রিসার্চ সংস্থার মতে, অতিমাত্রায় রেডিয়েশনের কারণে ব্রেইন ক্যান্সার হতে পারে। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন এর মতে, মোবাইল টাওয়ার রেডিয়েশনের কারণে মানুষের টিউমার, আলঝেইমার, ব্রেইন টিউমার, ক্যান্সার, বন্ধ্যাত্ব, নিদ্রাহীনতা, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও গর্ভপাতসহ বিভিন্ন  রোগ অতিত্রায় বেড়ে গেছে। সম্প্রতি ভারতে মোবাইল টাওয়ারের ক্ষতিকর দিক বর্ণনা করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। মোবাইল ফোনের টাওয়ার থেকে বিচ্ছুরিত তড়িৎ্-চুম্বকীয় বিকিরণের জন্য চড়ুই, মৌমাছি, ব্যাঙ, বাদুড় চামচিকা, শালিক, টুনটুনি, ময়না, টিয়া প্রভৃতি অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন। বিকিরণের জন্য বদলে যাচ্ছে পশু-পাখি-পতঙ্গকুলের আচরণ। সাথে সাথে তাদের প্রজননেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেন, বর্তমানে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দেশের যোগাযোগের অন্যতম হাতিয়ার মোবাইল ও টেলিফোন সেক্টর অনেক বিস্তৃত ও আধুনিকায়ন হয়েছে। বিশাল এই সেক্টরটি মনিটর করার পর্যাপ্ত জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। তবে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই সেক্টরটির উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুসরণ করে বিটিআরসি মোবাইল টাওয়ার বসানোর অনুমতি দিচ্ছে। তবে একথাও ঠিক যে এগুলো যথাযথভাবে মনিটর করার মতো প্রযুক্তি ও জনবল আমাদের নেই।


মোবাইল রেডিয়েশন থেকে বাঁচার উপায়,মোবাইল রেডিয়েশন,মোবাইল রেডিয়েশন চেক,মোবাইল রেডিয়েশন চিপ,মোবাইল রেডিয়েশনের ক্ষতি,মোবাইলের রেডিয়েশন,মোবাইলের রেডিয়েশন থেকে বাঁচার উপায়,মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন স্বাস্থ্যঝুঁকি,মোবাইল রেডিয়েশন কি,মোবাইল এর রেডিয়েশন,kfplanet.com,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *