ম্যালেরিয়া জ্বরের লক্ষণ সমূহ

ম্যালেরিয়া হল  একটি মশা-বাহিত সংক্রামক রোগ । এই রোগের মূলে আছে প্লাজমোডিয়াম গোত্রের প্রোটিস্টা যা এক ধরনের অণুজীব। বাংলাদেশে ম্যালেরিয়া রোগের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে , সে জন্য এই রোগ সম্পর্কে ভাল ভাবে জানতে হবে । আমরা আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরব ম্যালেরিয়া জ্বরের লক্ষণ সমূহ। স্বাভাবিক জ্বরের আর ম্যালেরিয়া জ্বর কিছুটা পার্থক্য আছে ,তবে সবাই এই রোগ সম্পর্কে ভাল জানতে না পারলে স্বাভাবিক জ্বর ও ম্যালেরিয়া জ্বর পার্থক্য বুঝতে পারে না । এই পার্থক্য বুঝতে না পারলে আপনার অনেক বড় ক্ষতি হতে পারে । নিজের সুবিধার জন্য ম্যালেরিয়া জ্বরের লক্ষণ সমূহ জানতে হবে এর ফলে আপনার জীবনটা আরও সুন্দর ও উতফুল্ল হবে ।

ম্যালেরিয়া অনেকটা এশিয়া ,সাহারা-নিম্ন আফ্রিকা এবং আমেরিকা অঞ্চল সমূহে বিষুবরেখা ঘিরে বিস্তৃত। ম্যালেরিয়া সাধারণত স্ত্রী-অ্যানোফিলিস মশার কামড়ের মাধ্যমে সংক্রামিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশে অসচেতন মানুষের জন্য এই রোগটি বিস্তৃতি লাভ করছে । সচেতন হলে ম্যালেরিয়া অনেকটা নির্মূল করা সম্ভব। স্ত্রী-অ্যানোফিলিস মশা পচা আবর্জনা, জমে থাকা পানিতে ডিম ফুটায় এবং বংশ বৃদ্ধি করে ।

আমাদের সবার উচিত বাড়ীর আশ পাশে জমে থাকা ময়লা বা পানি পরিষ্কার করে ফেলা এতে ম্যালেরিয়া দমন করা খুব সহজ হব ।

ম্যালেরিয়া জ্বরের লক্ষণ সমূহ

প্রত্যেক নাগরিক নিজ থেকে সচেতন না হলে রাষ্ট্র কোন দিন নাগরিকদের সচেতন করতে পারে না । আপনি সচেতন হলে আপনার পরিবারের সবাই সুস্থ থাকবে । ম্যালেরিয়া এমন একটি রোগ যা সচেতন হলে খুব সহজে নির্মূল করা সহজ।

যাই হোক, ম্যালেরিয়া জ্বরের লক্ষণ থেকে বোঝা যায়, ম্যালেরিয়া হয়েছে কি না । ম্যালেরিয়া জ্বর কে হালকা ভাবে নেওয়ার কোন সুযোগ নেই।

ম্যালেরিয়া জ্বরের লক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরব

  • স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা কামড়ানোর প্রায় ৩-১০ দিন পর ম্যালেরিয়ার উপসর্গগুলি দেখা দিতে পারে।
  •  কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসবে।
  • নিয়মিত ও নির্দিষ্ট বিরতিতে জ্বর আসা-যাওয়া ।
  • অত্যাধিক জ্বরের সাথে শারীরিক ব্যাথা।
  •  ঘাম দিয়ে জ্বর কমে যায়।
  • জ্বর ছেড়ে গেলে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়েও কমে যেতে পারে।
  •  মাথাব্যথা, বমিও হতে পারে।
  •  গায়ে প্রচণ্ড ব্যথা,  অনিদ্রা,  ক্ষুধামন্দা, কোষ্ঠকাঠিন্য, হজমে গোলযোগ,খিঁচুনি,  পিপাসা লাগা, অবসাদ অনুভব করা,রক্তশূন্যতা দেখা উল্লেখ যোগ্য লক্ষণ।
  • ম্যালেরিয়া রোগের জটিলতম ধরন হলো ‘ম্যালিগন্যান্ট ম্যালেরিয়া’।
  • ম্যালিগন্যান্ট ম্যালেরিয়া ধরনের ফলে রক্তশূন্যতা, কিডনি বৈকল্য, শ্বাসকষ্ট হওয়া, জন্ডিস, খিঁচুনি, রক্তে গ্লুকোজ কমে যাওয়া।
  • ম্যালিগন্যান্ট ম্যালেরিয়া ধরনের ফলে মৃত্যুও হতে পারে।

ম্যালেরিয়াঃ 

ম্যালেরিয়া কথাটি প্রথমে ব্যবহার করে ১৭৫১ সালে , এই শব্দটির উদ্ভাবক মি. টর্টি (Torti) । ১৭৫৩ সালে পাঁচটি প্রজাতির প্লাজমোডিয়াম প্রেরণ এবং সংক্রমণ ঘটতে পারে বলে প্রমানিত হয়। ম্যালেরিয়া রোগের মৃত্যুর কারণ হল প্লাজমোডিয়াম ফ্যালসিপেরাম, প্লাজমোডিয়াম ভাইভ্যাক্স, প্লাজমোডিয়াম ওভাল এবং প্লাজমোড। ম্যালেরিয়া একটি সংক্রামণ রোগ।

ম্যালেরিয়া রোগের পরীক্ষাঃ

ম্যালেরিয়া জ্বরের পরীক্ষা করা হয় রক্ত পরীক্ষা , এন্টিজেন সনাক্তকরণ পরীক্ষা ।একমাত্র রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন আপনার ম্যালেরিয়া হয়েছে কি না।

ম্যালেরিয়া জ্বরের কারণঃ

স্ত্রী আনোফেলিস মশা কামড়ের কারণে ম্যালেরিয়া জ্বর হয় থাকে। আনোফেলিস মশা বাড়ীর আশ পাশে ময়লা আবর্জনা ও জমে থাকা পানিতে ডিম দেয় এর থেকে বাচ্চা ফুটিয়ে বড় হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *