সরকারি পলিটেকনিক কলেজ ভর্তি – তালিকা,ভর্তি যোগ্যতা ও খরচ

সম্প্রতি সরকারি পলিটেকনিক কলেজ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২০-২০২১ প্রকাশ পেয়েছে । বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বাের্ড আওতাধীন সকল সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে । পলিটেকনিক ভর্তি ২০২০ এর আবেদন www.btebadmission.gov.bd এর মাধ্যমে করা যাবে ।এখানে সরকারি পলিটেকনিক কলেজে ভর্তি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হল ।

সরকারি পলিটেকনিক কলেজ ভর্তি

এস.এস.সি পরীক্ষার পর চাইলে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে যে কোনো ডিপ্লোমা কোর্সেও ভর্তি হয়ে বদলে দিতে পারেন আপনার ভবিষ্যত জীবন। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বেশ কিছু কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানে যে কোর্সটি করতে খরচ হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা সেই কোর্সটি কোনো প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে করতে কমপক্ষে খরচ পড়ে ২ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ টাকা। এখন আর ভর্তি পরিক্ষা নেই সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে সকল আবেদন কারিদের মধ্যে সর্বচ্চ ভাল রেজাল্ট কারিদের বেছে নেওয়া হয়। তবে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানসমূহে নিজেদের ইচ্ছামতো শিক্ষার্থী ভর্তি করে থাকে। তবে প্রাইভেট কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যাদের খুবই উন্নতমানের শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে । সরকারি বা বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানই বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নিয়ন্ত্রন করা হয় এবং পরীক্ষা শেষে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক সনদপত্র প্রদান করা হয়।

সরকারি পলিটেকনিকে ভর্তির যোগ্যতা

এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় পাসের পর আপনি এখানে ভর্তি হতে পারবেন। সরকারি পলিটেকনিকে ভর্তি হতে চাইলে আপনাকে এসএসসি বা দাখিল পরীক্ষায় যে কোনো বিভাগ থেকে কমপক্ষে ৩.৫০ পেতে হবে। গণিতে জিপিএ ৩ পেতে হবে। বেসরকারিতে কমপক্ষে ২.০০ পেতে হবে।

১।২০২০, ২০১৯ ও ২০১৮ সালে এসএসসি পাসকৃত ছাত্র/ছাত্রীদের ক্ষেত্রে জিপিএ ৫,০০ প্রাপ্ত সকল বিষয়ের ওপর সর্বোচ্চ ৬৮ গ্রেড পয়েন্ট ধরে প্রাপ্ত জিপিএ এর ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করতে হবে (১৪ বিষয়ের প্রতি বিষয়ে গ্রেড পয়েন্ট ৫ হিসেবে ১৪x৫=৭০ হওয়ার কথা। কিন্তু চতুর্থ বিষয়ে ২ পয়েন্ট বাদ দেয়ার কারণে সর্বোচ্চ পয়েন্ট ৬৮ উল্লেখ করা হয়েছে)।

২।২০১৭ সালে এসএসসি পাসকৃত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত সকল বিষয়ের ওপর সর্বোচ্চ ৫৩ গ্রেড পয়েন্ট ধরে প্রাপ্ত জিপিএ এর ভিত্তিতে মেধাক্রম। নির্ধারণ করতে হবে (১১ বিষয়ের প্রতি বিষয়ে গ্রেড পয়েন্ট ৫ হিসেবে ১১x৫=৫৫ হওয়ার কথা। কিন্তু চতুর্থ বিষয়ে ২ পয়েন্ট বাদ দেয়ার কারণে সর্বোচ্চ পয়েন্ট ৫৩ উল্লেখ করা হয়েছে)।

৩।২০১৬ সালে এসএসসি পাসকৃত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত সকল বিষয়ের ওপর সর্বোচ্চ ৪৮ গ্রেড পয়েন্ট ধরে প্রাপ্ত জিপিএ এর ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করতে হবে (১০ বিষয়ের প্রতি বিষয়ে গ্রেড পয়েন্ট ৫ হিসেবে ১০x৫=৫০ হওয়ার কথা। কিন্তু চতুর্থ বিষয়ে ২ পয়েন্ট বাদ দেয়ার কারণে সর্বোচ্চ পয়েন্ট ৪৮ উল্লেখ করা হয়েছে)। এক্ষেত্রে ৬৮ পয়েন্ট ও ৫৩ পয়েন্ট কে ৪৮ পয়েন্টর সাথে সমতুল্য করে হিসাব করা হবে।

৪।সাধারন শিক্ষা বাের্ডের পয়েন্ট ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএসসির পয়েন্ট , মাদ্রাসা শিক্ষা বাের্ডের পয়েন্ট ও কারিগরি শিক্ষা বাের্ডের পয়েন্ট এবং ‘ও’ লেভেলের পয়েন্ট সমতুল্য করে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে।

 

পলিটেকনিক ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০১৯ অনুযায়ী পলিটেকনিক ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাডমিশন ২০১৯ তে ৫৩% শিক্ষার্থী মেধাক্রম অনুসারে এবং ৪৭% শিক্ষার্থী সরকার নির্ধারিত কোটায় ভর্তি হতে পারবে। সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কোটা হল মহিলা কোটা ২০%, এসএসসি (ভোকেশনাল) ১৫%, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান/ সন্তানদের সন্তান ৫%, বিশেষ শিক্ষার্থী ৫%, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের/ প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের সন্তানদের ২% এবং ঢাকা, চত্রগ্রাম, বাংলাদেশ সুইডিস পলিটেকনিকে ৪টি করে এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ২টি করে আসন ক্ষুদ্র ন্রি গোষ্ঠীর জন্য বরাদ্ধ থাকবে। তবে কোনও শিক্ষার্থীকে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে না।

সরকারি পলিটেকনিক কলেজের তালিকা

 

সরকারি পলিটেকনিকে পড়ার খরচ

সরকারি পলিটেকনিকে ৪ বছরে আপনার পড়াশোনার খরচ পড়বে মাত্র কম বেশি ৫০ হাজার টাকা। বেসরকারি পলিটেকনিকে পড়াশোনার খরচ একটু বেশি। সেখানে প্রতিষ্ঠান ও বিষয় ভেদে খরচ পড়বে আলাদা-আলাদা। সে ক্ষেত্রে ৯০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকার মতো খরচ হবে। এছাড়া গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সুবিধার জন্য বিশ্বব্যাংক ও কানাডার যৌথ উদ্যোগে বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান জনপ্রতি মাসিক ৮শ’ টাকা শিক্ষা বৃত্তি দিয়ে থাকে। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক স্থাপিত গাজীপুরে অবস্থিত শুধু ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের প্রতিষ্ঠান ঢাকা ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজিতে। যার মান যে কোনো প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমতুল্য।

 

যেসব বিষয়ে পড়ার সুযোগঃ

যে বিষয়গুলো পড়ার সুযোগ রয়েছে সরকারি এবং বেসরকারি পলিটেকনি্কে শিক্ষা শেষে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার সুযোগ রয়েছে। চার বছর যে বিষয়ে পড়ানো হয় সেগুলো হলো আর্কিটেকটর এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইন, কনস্ট্রাকশন, আর্কিটেকচার, সিভিল, কম্পিউটার, গার্মেন্টস ডিজাইন এ্যান্ড প্যাটার্ন মেকিং, ইনভায়রনমেন্টাল, ইন্সট্রুমেন্টাল এ্যান্ড প্রসেস কন্ট্রোল, মেকাট্রনিক্স, মাইনিং এ্যান্ড মাইন সার্ভে, টেলিকমিউনিকেশন, ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স, ফুড, মেকানিক্যাল, পাওয়ার, রেফ্রিজারেশন এ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং, সিরামিক, গ্লাস, সার্ভেয়িং, মেরিন, শিপবিল্ডিং, এ্যারোস্পেস, অটোমোবাইল, কেমিক্যাল, সিভিল, ডাটা টেলিকমিউনিকেশন এ্যান্ড নেটওয়ার্কিং, কম্পিউটার সাইন্স, ইলেকট্রোমেডিকেল, প্রিন্টিং, গ্রাফিক ডিজাইন।


সরকারি পলিটেকনিক কলেজ ভর্তি,সরকারি পলিটেকনিক কলেজ তালিকা,সরকারি পলিটেকনিক কলেজ সমূহ,সরকারি পলিটেকনিক কলেজ খুলনা,বগুড়া সরকারি পলিটেকনিক কলেজ,ময়মনসিংহ সরকারি পলিটেকনিক কলেজ,ঢাকা সরকারি পলিটেকনিক কলেজ,দিনাজপুর সরকারি পলিটেকনিক কলেজ,সরকারি পলিটেকনিক কলেজের তালিকা,kfplanet.com,

Leave a Comment